(১২):শিয়ালকোর্টের জনসভাঃ
সিনোপসিস (১২): শিয়ালকোর্টের জনসভাঃ ১৯৭১ থেকে ২০১০ : ১৯৭১ সালের কথা। পূর্বপাকিস্তানের প্রতিটি ধূলিকনাও তখন আন্দোলনে ব্যাস্ত। পশ্চিম পাকিস্তানের নীতি নির্ধারনী খেঁকশিয়ালের ডাকে পূর্বপাকিস্তানের একদল খেঁকশিয়াল পশ্চিমপাকিস্তানের শিয়ালকোর্টে পৌছে গেছে। ছলাপরামর্শ চলছে।
এমনি একদিনে বঙ্গবন্দুকে এরেস্ট করে নিয়ে যাওয়া হল পাশ্চিম পাকিস্তানে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের খেঁকশিয়ালরা তখন আনন্দে মাতোয়ারা। এক রাত দুপুরে শিয়ালকোর্টের পাশের জঙ্গল থেকে আসা মুহুর্মুহু চিৎকার আর শ্লোগানে আশপাশের এলাকার সব লোকের ঘুম ভেঙ্গে গেল। শ্লোগানের পর শ্লোগান চলছে। কেয়া হুয়া কেয়া হুয়া, হুয়াক্কা হুয়া হুয়াক্কা হুয়া / হাত মে বিড়ি মুমে পান,লড়কে ল্যাঙ্গে পাকিস্তান / জিতে রহো পাকিস্তান, মুরদাবাদ হিন্দুস্থান । পুর্বপাকিস্তান থেকে যাওয়া খেঁকশিয়ালদের নেতৃত্ব-এ ছিল লেজপুড়া মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা এক ছ্যাঁচ্চোড় খেঁকশিয়াল। সে সবাইকে শান্ত হতে বললো। মক্তবে ছাত্রাবস্তায় সে ১০ টি ফতোয়া মুখস্ত করেছিল। এই ১০ টি ফতোয়াই তার মুল সম্পদ। চোখ বন্ধ করে প্রথম ৩ টি ফতোয়া সবাইকে শুনালো। তারপর ফতোয়ার সাবজেক্ট নির্নয়ের পালা। “শেখ মুজিব স্বাধীনতার আন্দোলন করে, প্রগতিশীলতার কথা বলে , ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলে, এই সবই ইসলামের পরিপন্থী, সূতরাং শেখ মুজিব মোরতাদ! আর যারাই ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ও স্বাধীনতার কথা বলে -তারা সবাই মোরতাদ! ” তার ফতোয়া শুনে সব শেয়াল ধ্বনি তুললো "কেয়া হুয়া কেয়া হুয়া / হুয়াক্কা হুয়া, হুয়াক্কা হুয়া"। পশ্চিম পাকিস্তনের খেঁকশিয়ালদের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের অনেক গোপন তথ্য সরবরাহ করা হয়। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পূর্ব পাকিস্তানে চলে বুদ্ধিজীবি হত্যা। এভাবেই ৯ মাস কেটে যায়। শিয়ালকোর্টের আশপাশ প্রতিটি রাত্র মুহুর্মুহু ধ্বনীতে আন্দোলিত হতে থাকে। ডিসেম্বর মাসের প্রায় মাঝামাঝি , হঠাৎ করেই এক রাত দুপুরে শিয়ালকোর্টের জঙ্গলের আন্দোলনের কোন শব্দ নেই। আশপাশের মানুষের প্রশ্ন খেঁকশিয়ালরা গেল কোথায়? ইতিমধ্যেই এম আর আক্তার মুকুলের বিচ্ছুরা স্বাধীনতা ঘোষনা করে ফেলেছে। বিপাকে পড়েছে পূর্ব পাকিস্তানের খেঁকশিয়ালেরা। না পুর্বপাকিস্তান ফিরতে পারছে, না পশ্চিম পাকিস্তানে থাকতে পারছে। পশ্চিম পাকিস্তানের খেঁকশিয়ালরা তখন পূর্ব পাকিস্তানের খেকশিয়ালদের নিয়ে চিন্তিত, দিবা রাত্র ফন্দি আটছে । তাদের খাবারে ভাগ বসাতে দেবে না। তাই প্রথমেই পুর্বপাকিস্তানী সব খেঁকশিয়ালদের ধরে লেজ কেটে ফেললো। এতে পূর্ব পাকিস্তানী শেয়ালদেরকে চিহ্নিত করন সহজ হল। তাদের নেতা ছ্যাঁচ্চোড় খুঁচা খুঁচা দাড়িওয়ালা খেঁকশিয়ালর কপালে ছ্যাঁকা দেয়া হলো। এতে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃত্বে থাকা শেয়ালদের সনাক্ত করতে আর অসুবিধা হল না । পূর্ব পাকিস্তানী শেয়ালরা নীরবে কাঁদছে “একদিন যাদের জন্যে নিজ দেশের বিরুধিতা করে আসছিল আজ তারাই তাদেরকে ছ্যাঁকা দিচ্ছে।“ উপায়ান্তর না দেখে ছ্যাঁকাখাওয়া নেতা গুলো পালিয়ে পাকিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল। গলাকাটা পাসপোর্ট যোগাড় করে ওরা বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমালো। উত্তর আমেরিকা, বৃটেন –মধ্যপ্রাচ্য সহ অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়লো । কিছু দিন ওরা ঘাপটি মেরে থাকার পর আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। প্রতিশোধ জ্বালায় ওরা জ্বলছে। পশ্চিমা দেশের বাক স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে এবার “বাক বাকুম” । ওরা প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ার সভা করে। ওরা লুকিয়ে লুকিয়ে ফ্লায়ারস বিলি করে- ফতোয়া দেয়। কপালে ছ্যাঁকাওয়ালা খেঁকশিয়াল আরেকটু এগিয়ে গিয়ে এখন পশ্চিমা সমাজের আইন কানুনের বিরুদ্ধেও কথা বলতে শুরু করেছে। ঐ সেদিন এক খেঁকশিয়াল বৃটেনের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছে। এই খেঁকশিয়াল বৃটেনের খায়, বৃটেনের অণুদানে বেঁচে থাকে অথচ বৃটেনের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়। ওরা বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে পশ্চিমা সমাজে ঘুরে বেড়ায়। আর তলে তলে পশ্চিম পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখে আর জপে “পাক সাফ জমিন সার” । তাই পশ্চিমা সমাজে বা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশী বাঙ্গালীদের উচিৎ ঐ লেজকাটা আর ছ্যাঁকা খাওয়া শেয়ালদের থেকে দূরে থাকা। ওদের অপকর্মের জন্য যাতে দেশের বা কমিউনিটির বারোটা না বাজে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। ওরা সকল সমাজ ও সকল দেশের জন্য ক্ষতিকর এই সত্যটি সবাইকে অনুধাবন করা উচিৎ ।